বন্যা পরিস্থিতিতে উদাসীন সরকার: বিএনপি

প্রথম সময় ডেস্কঃ

দেশের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সরকার একেবারেই উদাসীন। তারা এখন পর্যন্ত কোনও উদ্ধার বা ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানা নেই। আর মহামারী করোনার সঙ্গে এই বন্যা জনজীবনে ভয়াবহ দুর্যোগ সৃষ্টি করেছে।

শনিবার বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকে দেশে বন্যা পরিস্থিতির ক্রমাবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ভারত অভিন্ন নদী গুলোর সকল বাঁধ ও ব্যারেজের গেট খুলে দেয়ায় উজান থেকে নেমে আসা বন্যার পানি বাংলাদেশে ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, মেঘনা, মহানন্দা, পদ্মা, তিস্তা ও ধরলা নদীর অববাহিকায় ইতোমধ্যে প্রায় ৩৪টি নদী প্লাবিত হয়েছে এবং সব কটি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

‘উত্তরাঞ্চলে রংপুর বিভাগ ও রাজশাহী বিভাগের প্রায় সবকটি জেলা, জামালপুর, ময়মনসিংহ, সুনামগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ জেলা ইতোমধ্যেই বন্যা কবলিত হয়েছে এবং অধিকাংশ নদীতেই পানি বাড়ছে। দেশের অধিকাংশ অঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকায় দুর্গত মানুষ অসহায় অবস্থায় বাড়ি-ঘর ছেড়ে রাস্তায় বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে। সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে কালাতিপাত করছে। কিন্তু সরকার একেবারেই উদাসীন। এখন পর্যন্ত কোনও উদ্ধার বা ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানা নেই।’

সভায় বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে আহ্বায়ক করে একটি ত্রাণ কমিটি গঠন করা হয়। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু অবিলম্বে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করবেন। সভায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের এবং অঙ্গ সংগঠন সমূহের সকল পর্যায়ের সকল নেতা ও কর্মীকে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

সম্প্রতি করোনায় আক্রান্ত হয়ে বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আউয়াল খানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয় বৈঠকে। বৈঠকে বলা হয়, আউয়াল খান একজন একনিষ্ট নিবেদিত প্রাণ নেতা ছিলেন বলে অভিমত প্রকাশ করা হয়। তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয় এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়।

একইসঙ্গে বৈঠকে সারাদেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের জন্য শোক প্রকাশ ও বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয। তাদের সকলের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করা হয়।

সভায় পহেলা আগস্ট পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজের পরে বেলা ১১টায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। করোনা পরিস্থিতির কারণে শুধুমাত্র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কর্মসূচী পালনের সিদ্ধান্ত হয়।

এছাড়া বৈঠকে করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও রাজনৈতিক এবং সাংগঠনিক বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

Advertisements

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *