ইউএনওকে হামলা পরিকল্পিতঃ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন

প্রথম সময় ডেস্কঃ

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ঘরে হামলাটি পরিকল্পিত ছিল বলে মনে করছে সরকারি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি দাবি করেছে, চুরি করতে দেখে ফেলায় ইউএনও ওয়াহিদা খানমের উপর হামলা হয়নি। তার ঘরে হামলাটি ছিল পরিকল্পিত।

সংগঠনটি মনে করছে, ওয়াহিদা খানমের ঘরে হামলাটি কোনো চুরির ঘটনা নয়। কারণ দুর্বৃত্তরা কোনো প্রকার জিনিস চুরি করেনি। তাই এটা একটি পরিকল্পিত আক্রমণের ঘটনা। আর এর সাথে আরো অনেক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে বলে মনে করছে অ্যাসোসিয়েশন।

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য কোনো কোনো মহল বিচ্ছিন্ন এবং চুরির ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এসময় হেলালুদ্দীন আহমেদ সারাদেশে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিরাপত্তায় ব্যাটালিয়ন আনসার নিয়োগের দাবি জানান। সংগঠনের মহাসচিব ও জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, ইদানিংকালে ওয়াহিদা খানম কিছু উচ্ছেদ করেছেন। এর জন্য কিছু লোকজন উনার উপর সংক্ষুব্ধ হয়েছেন। আর সেখানে অবৈধভাবে বালু তুলতে উনি বাধা দিয়েছিলেন। এসব কারণে হয়তো প্রভাবশালী কেউ তার উপর ক্ষিপ্ত হতে পারে। আর এভাবে সেটার বহিঃপ্রকাশ হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়,বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে একটি পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা তদন্তকারী দলগুলোকে নিজেদের মতামত ও পর্যবেক্ষণ জানাবে।

গত বুধবার মধ্যরাতে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি ভবনে ঢুকে হামলা চালায় দুষ্কৃতিকারীরা। ঘটনার পর পর তদন্তে নামে র‌্যাব ও পুলিশের যৌথ দল। বৃহস্পতিবার দিনাজপুর ডিবি গোয়েন্দা পুলিশ ইউএনও’র বাসভবনের নৈশ প্রহরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। ঘটনাস্থলে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করে এবং গোপন খবরের ভিত্তিতে বাকি পাঁচজনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ঘটনার তদন্তে এর মধ্যে ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে এরইমধ্যে রংপুর বিভাগের ৫৮টি উপজেলায় ইউএনওদের নিরাপত্তায় ১০ জন করে অস্ত্রধারী আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এই ঘটনার পেছনে যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

এদিকে এই ঘটনার পর বেরিয়ে আসে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেয়া তিনজনই যুবলীগের নেতা। তাদের তিনজনকেই এরমধ্যে বহিষ্কার করা হয়েছে।

স্থানীয়রা তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, হয়রানি, মাদক সেবনের অভিযোগ আনায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান দিনাজপুর জেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ পারভেজ।

তিনি বলেন, তাদেরকে আর কখনও আওয়ামী লীগের কোন অঙ্গসংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত হতে দেয়া হবে না।

এ ঘটনায় অজ্ঞাতদের আসামি করে ঘোড়াঘাট থানায় মামলা করেন ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ভাই।

হামলার পর ভোরের দিকে ওয়াহিদা খানম এবং তার বাবা ওমর আলী শেখকে উদ্ধার করে প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে মিসেস খানমকে রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল ভর্তি করা হয়।

পরে মিসেস খানমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

অস্ত্রোপচার সফল হলেও মাথায় ৯টি গুরুতর জখম এবং একপাশে খুলি ভেঙ্গে যাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল। তবে এখন তিনি আগের চেয়ে অনেকটা সুস্থ। কথাও বলতে পারছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *