প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো উপহার নিয়েই বাড়ি ফিরল সেই আদরী

প্রথম সময় ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো উপহারসামগ্রী নিয়ে বাড়িতে ফিরলেন কালীগঞ্জের সেই প্রতিবন্ধী মা ও তার সদ্যোজাত কন্যা আদরী। প্রতিবন্ধী নারীর আশ্রয়দাতা দরিদ্র দম্পতির সংসারেই তাদের ঠাঁই হলো।

বুধবার সকালে আশ্রয়দাতা আমজাদ হোসেন ও ছাকিরন দম্পতির হাতে প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো এক লাখ টাকার মধ্যে নগদ ৫৫ হাজার টাকা এবং ৪৫ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি মোটরচালিত ভ্যান তুলে দেন স্থানীয় সাংসদ আনোয়ারুল আজিম আনার ও ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবর্ণা রানী সাহা, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল লতিফ শেখ, ওসি মাহাফুজুর রহমান মিয়া, প্রেস ক্লাব সভাপতি জামির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

গত সপ্তাহে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের ময়ধরপুর গ্রামের রাস্তার পাশে পড়েছিল অজ্ঞাত অসুস্থ এক মানসিক প্রতিবন্ধী। সেখান থেকেই দিনমজুর আমজাদ, সমাজসেবক আব্দুর রশিদসহ গ্রামের বেশ কয়েকজন তাকে নিয়ে আসেন কালীগঞ্জ হাসপাতালে। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে দেখে জানান, মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা। এ অবস্থায় প্রতিবন্ধীর পাশে দাঁড়ায় দিনমজুর আমজাদ। তিনি প্রতিবন্ধীকে তার বাড়িতে নিয়ে যান।

গত ২ অক্টোবর সমকালসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টিগোচর হয়। সেদিন বিকেলেই কালীগঞ্জ হাসপাতালে ফুটফুটে চেহারার কন্যাসন্তানের জন্ম দেন প্রতিবন্ধী নারী। নবজাতকটির জন্মের পরই স্থানীয় সাংসদ আনোয়ারুল আজিম হাসপাতালে গিয়ে মা ও নবজাতকের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। ছুটে আসেন ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ নবজাতককে কোলে তুলে তার নাম রাখেন আদরী। তিনি আশ্রয়দাতা দম্পতির হাতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা তুলে দেন। এ সময় মা ও মেয়ের চিকিৎসাসহ যাবতীয় ব্যয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দেওয়া হবে জেলা প্রশাসক জানান।

পরে ৫ অক্টোবর সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আদরীকে কোলে তুলে নিয়ে ১০ হাজার টাকার চেক হস্তান্তর করেন। আদরীকে অনেকে নিতে চেয়েছেন। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শিশুকল্যাণ বোর্ড সভায় আমজাদ-ছাকিরন দম্পতির মহৎ কাজের জন্য তাদের হাতেই তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

সাংসদ আনোয়ারুল আজিম বলেন, একজন অসহায় মানসিক প্রতিবন্ধীর প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরই মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী তার মহত্ত্বের হাত বাড়িয়েছেন। তার এমন উদারতায় কালীগঞ্জবাসী ধন্য। আশ্রয়দাতা দম্পতি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য পেয়ে তারা দারুণ খুশি। তবে কেউ সাহায্য না দিলেও তারা ওই প্রতিবন্ধী নারী ও তার শিশুকে লালন-পালন করতেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *