খুলনা জেলা যুবলীগের সম্মেলন কবেঃ কেউ জানে না?

বিশেষ প্রতিনিধি: খুলনা জেলা যুবলীগের সম্মেলন কবে হবে কিংবা আদৌতেই হবে কিনা, সেটা কেউই জানে না, দলের নেতা কর্মীরা তীর্থের কাকের মতো কেন্দ্রীয় কমিটি ও খুলনা জেলা আওয়ামীলীগের নেতাদের দিকে পথ চেয়ে আছে।

বিস্ময়কর হলেও সত্য, ১৮ বছর আগে করে দেয়া কমিটি জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক কালের পরিক্রমায় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব কয়েক বছর পালন শেষে তারা এখনও অফিসিয়ালি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।এমন বেরসিক ঘটনা দেশের অন্য কোথাও আছে কিনা তা সংশ্লিষ্ট নেতারাও বলতে পারেন নি। সেই কমিটির সভাপতি ছিলেন, জেলা আওয়ামীলীগের গত কমিটির সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক কামুরুজ্জামান জামাল, সাধারন সম্পাদক ছিলেন, আখতারুজ্জামান বাবু। মুল দলে বাবুও ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক। গেলো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাবু খুলনা- ৬ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন জেলা যুবলীগের সম্মেলন না হওয়ায় নেতৃত্বে যেমন জট বেঁধেছে তেমনি নেতা কর্মীদের মনেও চরম হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। মুল দলের বিদ্যমান একাধিক গ্রুপ, উপগ্রুপের ছায়া জেলা যুবলীগেও বিদ্যমান, দলের নেতা কর্মীরাও অবলীলায় সেটা স্বীকার করেছেন। গেলো বছরে ওমর ফারুক চৌধুরী কেন্দ্রীয় সভাপতি থাকাকালে কেন্দ্র থেকে তারিখ এনেও দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারনে সম্মেলন করা সম্ভব হয় নি।এর পরে ক্যাসিনো কেলেংকারির কারণে কেন্দ্রীয় যুবলীগের উপর দিয়ে টর্নেডো বয়ে যায়, এক পর্যায়ে ওমর ফারুক চৌধুরী নিজেও সাংগঠনিক পদ হারান, নতুন করে কেন্দ্রীয় সম্মেলনে শেখ পরশ সভাপতি, মাইনুল হাসান নিখিল সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পান, এর পরে করোনার মতো মহা দুর্যোগ শুরু হলে দেশের রাজনীতি অন্য সব কিছুর মতোই স্তিমিত হয়ে যায়। অতি সম্প্রতি রাজনীতি এবং জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হতে শুরু করলে খুলনা জেলা যুবলীগের সম্মেলনের বিষয়টি আবারও সামনে চলে এসেছে। বুধবার রাতে জেলা যুবলীগের অফিসিয়াল সভাপতি, কামরুজ্জামান জামাল প্রথম সময়কে বলেছেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি নিজেও বিব্রত যুবলীগের সভাপতি পরিচয় নিয়ে, কেননা তিনি নিজেই আওয়ামীলীগের বিদায়ী কমিটিতে দীর্ঘদিন সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। সবাই আমাকে এখন আওয়ামীলীগ নেতা হিসাবেই চেনে, জানে।

একই অবস্থা সাবেক সাধারণ সম্পাদক আখতারুজামান বাবুর ক্ষেত্রেও।বিদায়ী জেলা কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন, এর আগে ১৮ বছর আগে করা যুবলীগের কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, পরে এরা জেলা কমিটি থেকে ঘুরেও আসা, এখন আবার যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। বাবুর ঘনিষ্ঠ সুত্রগুলি বলেছে, বাবু এখন জাতীয় সংসদ সদস্য। তার কাজের পরিধি বেড়েছে। গেলো মেয়াদে আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকারি বাবু নিজেও এখন যুবলীগের সাধারন সম্পাদক পরিচয় দিতে বিব্রত হন।
বাবুর ঘনিষ্ঠ সুত্রগুলি বলেছে, বিষয়টি বাবুর জন্যও বিব্রতকর। তাই তিনিও সম্মেলন করতে আগ্রহী, একই সঙ্গে নেতৃত্ব ছেড়ে দিতে চান। ভিন্ন সুত্রগুলি বলেছে, দলীয় কোন্দল, নিজ আধিপত্য তৈরি, করনাসহ নানা কারনে এতদিন সম্মেলন হয়নি, তবে এবার সম্মেলন করতে আগ্রহী কম বেশি সবাই।

যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক মাইনুল হাসান খান নিখিল অতি সম্প্রতি প্রথম সময়কে বলেছেন, আমরা সবে দায়িত্ব নিয়েছি, আমাদের কমিটি পুরনাংগ হলেই দেশ ব্যাপী আমরা বিভিন্ন জেলা ও মহানগর শাখার সম্মেলন নিয়ে হাত দেবো, খুলনার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সেখানের সব কিছুই আমাদের নলেজে আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *