যে কারণে নিজেকে নির্বাসনে রেখেছেন খুলনার আলহাজ্জ মিজান

বিশেষ প্রতিনিধি: নিজের অবমুল্যায়নকে মেনে না নিতেই নিজেকে সেচ্ছা নির্বাসনে রেখেছেন খুলনা মহানগর আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক, খুলনা সদর আসনের সাবেক এমপি আলজাজ্জ মিজানুর রহমান মিজান।এটা তার নিরব প্রতিবাদ। জানা গেছে, এমপি পদে মনোনয়ন হাত ছাড়া হয়ে গেলেও দলে সক্রিয় ছিলেন আলহাজ্জ মিজান। কিন্তু এমপি পদ হাতছাড়া হতেই খুলনার রাজনীতিতে মিজান হটাও এমন একটি বাতাস অদৃশ্য মহল থেকে সুকৌশলে ছড়িয়ে দেয়া হয়। দলের বিভিন্ন সভা সমাবেশ, লোকাল ইউনিটের সম্মেলনের ব্যানারে, ফেস্টুনে আলহাজ্জ মিজানের নাম হাইড করা শুরু হয়।পরবর্তীতে গেল বছরে ১০ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে মহানগর সাধারন সম্পাদকের পদ হারান।এর পাশাপাশি এমপি পদে থাকা অবস্থায় দুদকের মামলায় আসামি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাদকের পৃষ্ঠপোষকের তালিকায় আলহাজ্জ মিজানের নাম থাকায় অনেকটা বীতশ্রদ্ধ হয়েই দল ও রাজনীতি থেকে নিজেকে একেবারেই নিস্ক্রিয় করে ফেলেন।

আলহাজ্জ মিজান মনে করেন, মাদকের পৃষ্ঠপোষক আর দুদকের মামলায় তাম আসাটা ছিল পুরাটাই ষড়যন্ত্র।রাজনৈতিক ভাবে গড়ে উঠা তার দীর্ঘদিনের ক্যারিয়র ধ্বংস করতেই এসব করা হয়েছে।

দলের দায়িত্বশীল একটি সুত্র বলেছে, সোনাডাঙ্গা থানার গেলো সম্মেলনে আলহাজ্জ মিজান আমন্ত্রিত অতিথি হিসাবেই উপস্থিত হয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে গিয়ে সম্মেলনের দিন দেখতে পান মঞ্চের ব্যানারে আলহাজ্জ মিজানের নাম নেই। পরে বিশেষ একটি পরিবার থেকে টেলিফোন পেয়ে ব্যানারের উপর দিয়ে সোনাডাঙ্গা থানা ইউনিটের নেতারা সাদা কাগজ দিয়ে আলহাজ্জ মিজানের নাম বিশেষ অতিথি হিসাবে জুড়ে দেন।

এমন একাধিক ঘটনার প্রেক্ষিতে আলহাজ্জ মিজান নিজেকে অপমানিত বোধ করেই মহানগর সম্মেলনের পরে রাজনীতি থেকে গুটিয়ে নেন।
খুলনার রাজনৈতিক সুত্রগুলি জানায়, ঠিক এমন ঘটনা এখনও চলমান। গেলো সপ্তাহে, খুলনা হাদিস পার্কে খুলনা আওয়ামীলীগের প্রয়াত নেত্রী, কাউন্সিলর লুৎফা বেগমের মরদেহ আনা হলে অন্য দশ জনার মতোই আলহাজ্জ মিজান নিজেও গিয়েছিলেন শোক জানাতে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন এমন একাধিক সুত্র জানায়, উপস্থিত সুধীজনের নামের তালিকা বারবার ঘোষণা দেয়া হলেও আলহাজ্জ মিজানের নাম মাইকে বলা হয়নি, অথচ আলহাজ্জ মিজান সেখানেই উপস্থিত ছিলেন। মাইকে তালিকা ঘোষণার দায়িত্বে ছিলেন প্রভাবশালী একজন আওয়ামীলীগ নেতা।

উপস্থিত অন্যরা বলেছেন, সেখানে বিএনপি নেতা সাহারুজ্জামান মর্তুজার নাম উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের তালিকায় মাইকে বারংবার বলা হলেও হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আলহাজ্জ মিজানের নাম বলা হয়নি। অতি সম্প্রতি, প্রয়াত একজন নেতার জানাজায় উপস্থিত হলে সেখানে প্রথম কাতারে আলহাজ্জ মিজানকে দাড়াতে দেয়া হয়নি। মিজান সেখানে স্বেচ্ছায় নিজে পেছনে এসে দাঁড়ালে সাধারণ মানুষ সতস্ফুরত ভাবে আলহাজ্জ মিজানকে গ্রহন করে নেন।আলহাজ্জ মিজানকে নিয়ে ঘটে যাওয়া তুচ্ছ তুচ্ছ নেগেটিভ এমন অনেক আরও ঘটনা খুলনার মানুষের মুখে মুখে।

এমন ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রতিপক্ষরা আলহাজ্জ মিজানকে সমাজ বা দলের মধ্যে হেয় প্রতিপন্ন করতে চাইলেও এসব অনাক্ষিংকিত ঘটনায় আলহাজ্জ মিজান বারবারই হাইলাইট হচ্ছেন, তার অবস্থান জনগণের মাঝে সুদৃঢ় হচ্ছে। সাধারনের মাঝে তার জনপ্রিয়তা, গ্রহন যোগ্যতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। দল মত নির্বিশেষে তার প্রতি সবাই এখন যথেষ্ট সহানুভূতিশীল।দলের মধ্যেও এসব ঘটনা সমালোচিত হচ্ছে, কিন্তু একজন প্রভাবশালী নেতার রোষানলে পড়ার ভয়ে কেউই ভয়ে মুখ খুলছেন না।প্রতিপক্ষ নেতার অনেক অনুসারীও এখন আলহাজ্জ মিজানের প্রতি সহানুভূতিশীল।

জানা গেছে, অতি সম্প্রতি, আলহাজ্জ মিজানকে একটি সমবায় ব্যাংকে নির্বাচন করতে দেয়া হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে হয়ে উঠা মুল দলের প্রভাবশালী একজন নেতার নেতৃত্বে সমবায় ব্যাংকের নির্বাচনী সিডিউল ক্লোজ করা হয়।

আলহাজ্জ মিজান তার ঘনিষ্ঠদের বলেছেন, এভাবে রাজনীতি করা যায় না, আর তিনিও রাজনীতি করতে উৎসাহী নন। যুবলীগের আহ্বায়ক, সভাপতি, মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, দুই দুবার মহানগর সাধারন সম্পাদক, সদর আসনের একবার এমপি হবার সৌভাগ্য তার হয়েছে। আল্লাহ তারে অনেক দিয়েছেন। তিনিও সাধ্যমতে দলকে শ্রম, মেধা, অর্থ, সময় দিয়েছেন।

মিজান তার ঘনিষ্ঠদের আরও বলেছেন, খুলনার অলি গলিতে আলহাজ্জ মিজান আজ পরিচিত একটা নাম, বাচ্চা শিশু থেকে বয়োবৃদ্ধ সবাই তারে চিনে, জানে, এটাই তার জীবনের বড় পাওয়া। বাকি জীবন তিনি একজন সাধারন মানুষের মতোই কাটাতে চান। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ইঙ্গিত করে আলহাজ্জ মিজান বলেছেন, ওরাই রাজনীতি করুক, আমি তো আর এখন রাজনীতিতে সক্রিয় নেই, মাঠ একচেটিয়া দাপট, প্রভাব, কর্মকাণ্ড তাদের। প্রতিপক্ষ গ্রুপের সুবিধার্থে প্রয়োজনে খুলনা ছেড়ে দিয়ে গোপালগঞ্জে নিজ গ্রামে চলে যেতে চান মাঠের সার্বক্ষণিক কর্মীখ্যাত কিংবদন্তী এই রাজনীতিক অভিমানী আলহাজ্জ মিজান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *