বিদেশি অনুদান নেমেছে ৩ শতাংশে

প্রথম সময় ডেস্ক: দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ায় এখন বিদেশি অনুদানের পরিমাণ নেমে এসেছে ৩ শতাংশে। বাকি ৯৭ শতাংশ ঋণ হিসেবে নেয়া হয়।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের তৈরি বৈদেশিক সহায়তা সম্পর্কিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করা হয় প্রতিবেদনটি।

প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে এবং মন্ত্রীরা সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

বৈদেশিক সহায়তা সম্পর্কিত প্রতিবেদনটি সম্পর্কে তিনি বলেন, ১৯৭১-৭২ থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছর পর্যন্ত বিদেশি সহায়তার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এতে।

মন্ত্রিপরিষদ-সচিব বলেন, প্রতিবেদনের উপস্থাপনা মতো ১৯৭১-৭২ থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছর পর্যন্ত তুলনা করলে দেখা যাবে, ১৯৭১-৭২ অর্থবছর বাংলাদেশের বৈদেশিক সহায়তার মধ্যে অনুদান ছিল সর্বোচ্চ ৮৪ থেকে ৮৬ শতাংশ, ঋণ ছিল ৬ থেকে ৮ শতাংশ। বেশির ভাগই দান হিসেবে আসত।

২০০৯-১০ অর্থবছরে বিদেশি সহায়তার মধ্যে অনুদান ছিল ৩০ শতাংশের মতো। বাকি ৭০ শতাংশের মতো ঋণ। নয় বছর পর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে অনুদান আসে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশের মতো, আর ৯৫ শতাংশই এসেছে ঋণ হিসেবে।

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা পাল্টে যাচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে অনুদান আরও কমে ২-৩ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। ৯৭ শতাংশই ঋণ হিসেবে আসছে। আমরা আর দানের ওপর নির্ভর করছি না। আমরা আমাদের নিজস্ব দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল।

তিনি বলেন, ১৯৯৭-৯৮ সালে বৈদেশিক সহায়তার অর্থছাড় ছিল ৭৪৮ মিলিয়ন ডলার। তখন জিডিপির ৩০ দশমিক ৪৭ শতাংশ ছিল ঋণের পরিমাণ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে অর্থছাড় হচ্ছে ৭ হাজার ১২১ মিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির মাত্রা ১৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *