করাপ্টেড কাপল হিসাবেই এখন তাদের পরিচিতি

বিশেষ প্রতিনিধিঃ মেধাবী ছেলে মেয়েরাই ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে, সেই অর্থে তাপসী ও প্রদীপ দম্পতি আক্ষরিক অর্থেই মেধাবী কিন্তু তাদের সমস্ত মেধা বিলীন হয়ে গেছে এই চাকরিতে ঢোকার পর থেকে। পরিচিতদের কাছে তারা এখন পরিচিত করাপ্টেড কাপল হিসাবে। দেশে বিদেশেও তাদের এখন এই পরিচিতি। অবসরে গেছেন সড়ক বিভাগের এমন একজন অতিরিক্ত প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম সময়কে বলেছেন, ওদের কারণে নিজেকে প্রকৌশলী পরিচয় দিতে লজ্জা লাগে। জানা গেছে, এই দম্পতির গায়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তকমা এর মধ্যেই লেগে গেছে। তাপসীর নামে মামলা হয়ে গেছে অন্যদিকে তাপসীর স্বামী প্রদীপকে ইতমধ্যেই দুদক তলব করেছে, সহায় সম্পত্তির হিসাব দাখিল করতে বলেছে।

দুদকে মামলা হয়েছে কিংবা হাজিরা দেয়া লাগতেছে এমন সরকারী চাকরীতে কর্মরত কাপল এরাই প্রথম। প্রকৌশলী কাপল হিসাবেও এরা প্রথম। লক্ষণীয় তাপসী আলোচিত হয়েছে দালাল আমিরের কারণে অন্যদিকে প্রদীপ একইভাবে আলোচিত এখন দালাল গোল্ডেন মনিরের কারণে।
প্রাপ্ত সুত্রমতে, তাপসীর কর্মস্থল খুলনা সড়ক ভবনে, অন্যদিকে স্বামী প্রদীপের কর্মস্থল ঢাকা গণপূর্ত ভবনে। অন্য দিকে স্ত্রী তাপসীও দুর্নীতিতে সিদ্ধহস্ত। নিজ ডিপার্টমেন্টে তিনি একজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত। রাজনৈতিক নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে চলেন সব সময়েই। তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী থাকার সময়ে খুলনা মহানগরীর শেরে বাংলা রোড সংস্কার করতে গিয়ে দীর্ঘদিন ফেলে রেখেছিলেন। অথচ ওই রোডেই বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্রদের বাড়ি।

পরে রোডের তদারকি নিয়ে তাপসী এক পর্যায়ে খুলনা সিটি মেয়রের সঙ্গে বাক বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। সিটি মেয়র সেই সময়ে তাকে প্রকাশ্যে দুর্নীতিবাজ বলেন যা পরে পত্র পত্রিকায় আসে। জানা গেছে, তাপসী এতটাই দুর্নীতিবাজ যে, একজন জন প্রতিনিধি যিনি একই সাথে পেশায় ঠিকাদার তার কাছ থেকে অফিশিয়াল ৬% ঘুষ নেবার পরেও ইনিয়ে বিনিয়ে পরে আরও টাকা তিনি নিয়েছেন।

ঐ ঠিকাদার কাম জনপ্রতিনিধি লজ্জায় এই কথা অন্য কাউরেই বলেন নি, আলাপকালে এই প্রতিবেদককে বলেছেন, আমাদের দল ক্ষমতায়, নিয়ম মেনে ৬% দিয়েছি তারপরেও তিনি আমার কাছ থেকে যেভাবে অতিরিক্ত টাকা নিয়েছেন তা বলার ভাষা আমার নেই। তিনি বলেন, এটা তার সাহস নয় রীতিমতো দুঃসাহস। ঘুষ খেতে খেতে তার চোখ লজ্জার পর্দা উঠে গেছে।

একাধিক অন্য ঠিকাদার রা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, টাকা আদান প্রদান তার কাছে ওপেন সিক্রেট। তিনি কোনও পরোয়া করেন না। প্রকাশ্যেই ঘুষ লেন দেন করেন, ক্ষুদ্ধ ঠিকাদারদের মন্তব্য, ঘুষ নেবার সময়ে তার অবস্থা অনেকটা বাইজী পাড়ার মাসীদের মতো।
খুলনা সার্কেল অফিসের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সওজ) তাপসী দাসের অবিলম্বে খুলনা বিভাগ থেকে অপসারণ চেতেছেন এসব ঠিকাদাররা।

সাধারণ ঠিকাদাররা বলেন, “তাপসী একজন দুর্নীতিবাজ অফিসার। সে খুলনার সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সহযোগিতায় বরাদ্দের অর্থ DPM(সরাসরি দরপত্র প্রক্রিয়া) এর মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতে লিপ্ত আছে এবং মাইনর PMP-এর বার্ষিক বরাদ্দের টাকাও ৩০০শত ম্যাট্রিসের ফাঁদে ফেলে এক কোটির নিম্ন থেকে এক কোটির ঊর্ধের কাজগুলো (পাঁচ কোটির মাঝে সীমাবদ্ধ) একটি বা দুটি সম্ভব্য ঠিকাদারগণের সাথে যোগাযোগ করে নিজের লোক দ্বারা নিম্নমানের কাজ করে সরকারি টাকা ভাগাভাগি করে নিচ্ছে। সে তার পোষা দালাল দ্বারা এই অনৈতিক কাজগুলো করার সুযোগ নিচ্ছে যা তার অফিসের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নিরক্ষণ করলে এসব দালালের বিষয় পরিষ্কার হয়ে যাবে। এসব দালালদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল মো: আমীর হোসেন, আরজু খান, তুষার।

কোনো কোনো কাজের ধরণ অনুযায়ী ১০% কাজ করে বাকি ৯০% কজের টাকা আত্মসাৎ করছে।”“তার বিরুদ্ধে দুদকেও দুর্নীতি মামলা রয়েছে। সাধারণ ঠিকাদারদের কেউ এই অনৈতিক কাজের বিরুদ্ধে কথা বললে তাপসী তার লাইসেন্স ব্ল্যাক লিস্টেড করার ও তার বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকিও দিয়েছেন এবং এতে তাপসীর সাথে যোগসাযোগে সহায়তা করবেন খুলনা বিভাগের বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী (সওজ)” বলে জানান স্থানীয় ঠিকাদাররা। তাই তারা নাম প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছেন কারণ যদি তাপসী খুলনা বিভাগ থেকে অপসারিত না হয় তাহলে তাদের লাইসেন্স ব্ল্যাক লিস্টেড করে দিবে অথবা তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা দিবেন।

জানা গেছে, তাপসী দাসের নামে ২৬(২) ও ২৭(১) দুটি দুর্নীতি মামলা রয়েছে যা প্রথমিক তদন্তের পর এখন যশোরের দুদক অফিসের ডেপুটি ডিরেক্টর (ডি.ডি.) এর কাছে এই বছরের শুরুতে হস্তান্তর করা হয়েছে আরো বিস্তারিত তদন্তের জন্য। কিন্তু ঠিকাদারদের দাবি, “তাপসী দুদককে টাকা দিয়ে এই দুই মামলার তদন্ত ধামাচাপা দিয়ে রেখেছে। না হলে ২০১৮ সালের দুর্নীতির মামলা ২০২০ সালেও তদন্ত দুদক শেষ করতে পারছে না। এটা হয় দুদকের ব্যর্থতা বা তদন্তে অনীহা।

মামলার এজহারে দেখা যায়, আসামী তাপসী দাস, নির্বাহী প্রকৌশলী, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, নড়াইল, বর্তমানে- নির্বাহী প্রকৌশলী, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, গোপালগঞ্জ, স্বামী: প্রদীপ কুমার বসু, ৬/খ, বেনী বাবু রোড, খুলনা সদর, খুলনা কর্তৃক দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ৪৮,৭৫,৮৬৫/= টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন এবং ২৫,০০,০০০/= টাকা ঋণ গ্রহণের মিথ্যা তথ্য প্রদর্শন করাসহ তার জ্ঞ্যাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ১,৩৮,৫৩,৪৬৬/= টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন ও ভোগ দখলে রাখার প্রমাণ দুদক পেয়েছে এবং দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় একটি মামলা করা হল।এই বিষয়ে আরো অনুসন্ধান করে জানা যায়, কয়েকদিন আগে প্রধান প্রকৌশলী (সওজ) একটি দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠণ করেছেন একটি কাজের রিজিট পেইভমেন্টের তদন্ত করার জন্য যা অত্যন্ত নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে। দাফতরিক এই তদন্ত প্রতিবেদন ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেবার কথা। ডুমুরিয়ার শাহপুরের কাজেও তিনি পুকুর চুরি করেছেন।

অন্যদিকে, অতি সম্প্রতি প্লট জালিয়াতির নায়ক সাবেক যুবদল নেতা গোল্ডেন মনিরের সঙ্গে যৌথভাবে প্লট জালিয়াতির অভিযোগে গণপূর্ত অধিদফতরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার বসুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। প্রদীপ সম্পর্কে তাপসীর স্বামী। বুধবার (৯ ডিসেম্বর) সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদকের তদন্ত দল।

দুদকের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।সম্প্রতি র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার মনিরুল ইসলাম ওরফে গোল্ডেন মনিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, এমন অভিযোগে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), গণপূর্ত বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এবং একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ মোট সাত জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদক। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার বসুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুদকের একজন কর্মকর্তা জানান, প্রদীপ কুমার বসু জিজ্ঞাসাবাদে গোল্ডেন মনিরের সঙ্গে তার সখ্যতার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। পরে তার নাম-ঠিকানা, আত্মীয়-স্বজনের নাম-ঠিকানা ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেওয়া হয়েছে। দুদকের পক্ষ থেকে তার সম্পদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে। একইসঙ্গে প্রদীপ কুমার বসুকেও ৪-৫ দিনের মধ্যে নিজের সম্পদের বিবরণী জমা দিতে বলা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদকারী দলের একজন সদস্য জানান, প্রদীপ কুমার বসুসহ গোল্ডেন মনিরের সংশ্লিষ্ট অন্য যাদের ডাকা হয়েছিল, তাদের কাছেও সম্পদের হিসাব চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুদকের পক্ষ থেকেও তাদের সম্পদের খোঁজ-খবর নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

দুদক সূত্র জানায়, গোল্ডেন মনিরের বিশেষ সখ্যতা করে যৌথভাবে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থের মালিক হওয়ার অভিযোগে গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার বসু সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত।গণপূর্ত অধিদফতরের দুর্নীতিবাজ প্রদীপ এখন ঢাকা জোনের দায়িত্বে রয়েছেন।

দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত এবং সাময়িকভাবে কিছু দিন আগেও তিনি সাময়িকভাবে বরখাস্ত ছিলেন।গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের গণপূর্তের অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ঢাকা মেট্রোপলিটন জোন) প্রদীপ কুমার বসুর নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনিয়মের মাধ্যমে শতকোটি টাকা মালিক তিনি। জানা গেছে, এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার গোপালগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগে কর্মরত থাকা কালিন প্রধানমন্ত্রীর মা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষন প্রতিষ্ঠান নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের বাউন্ডারী, ওয়াল, মাটি ভরাট, ভবনের ছাদ, ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, রিজার্ভ ব্যাংকে কাজ অপূর্ণ রেখেই ঠিকাদারদের বিল প্রদান এবং প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করার অভিযোগে এ মন্ত্রণালয় থেকে গত ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৬ তাকে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করে। সে মতে প্রদীপ কুমার বসুর বিরুদ্ধে এ সব অভিযোগের কারণে তাকে এক বছরের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করেন।

তাছাড়া তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কারণে একটি বিভাগীয় মামলাও করা হয়েছে এবং প্রদীপ কুমার বসুর হাত থেকেও প্রধানমন্ত্রীও রেহাই পাননি। তাছাড়া খুলনা গণপূর্ত জোনে থাকাকালিন সময়ে তার বিরুদ্ধে শত শত অভিযোগ রয়েছে। একটি বৃহত্তর কোম্পানীর সাথে আতাত করে তিনি শত কোটি টাকা হাতিয়ে ঢাকার পান্থপথে দুটি বাড়ী, স্ত্রী সন্তানের নামে একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লট রয়েছে। এই শীর্ষ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা এখন সব অপকর্ম ঢাকার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করেছেন। তিনি চাকুরী জীবনে যত জায়গায় কাজ করেছেন সব জায়গার কাজ দুর্নীতির ছোয়া লেগেছে। তিনি কাউকে তোয়াক্কা করেন না।

প্রদীপ কুমা বসুর অনিয়ম প্রথমবার ধরা পড়ে প্রধানমন্ত্রী মায়ের নামে চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে কাজের মাধ্যমে। এাছাড়া তিনি অসাদাচররে কারনে সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা ১৯৮৫ এর বিধি ১১ মোতাবেক তাকে সরকারি চাকুরী থেকে বরখাস্ত করেন। একটি বিশ্বস্থসূত্রে জানা গেছে স্বর্ণ চোরাচালানী ও বিদেশী সেন্ডিকেটের মাফিয়া ডন গোল্ডেন মনিরের সাথে গভীর সখ্যতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রদীপ কুমার বসু খুলনা জোন থেকে সম্প্রতি ঢাকা মেট্রোপলিটন জোন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী গণপূর্ত অধিদপ্তরে যোগদান করেন। গত ১৫ জুলাই ২০২০ যোগদানের পরই মাফিয়া ডন গোল্ডেন মনির তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তাদের এই ফুলেল শুভেচ্ছার ছবি সামাাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। গোল্ডেন মনির ও তার সহযোগীদের বড় বড় কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য তিনি ইতিমধ্যে একটি গোপন বৈঠক করেছেন।

এছাড়া দুর্নীতিবাজ এ কর্মকর্তা আগামীতে গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার জন্য দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন।

অপর একটি সুত্রে জিকে শামীমের পর এবার গণপূর্ত অধিদপ্তরকে কুক্ষিতগত করতে মরিয়া আন্তর্জাতিক সোনা চোরাকারবারীর চক্রের বাংলাদেশের প্রধান গোল্ডেন মনির এবং মাক্স কেলেংকারী ও বিভিন্ন সরকারী কাজে অনিয়মের জন্য তমা কনস্ট্রাকশনের প্রধান মানিক তাকে গোপনে সহযোগিতা করছেন। রাজউকের প্লট দখল, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ভূমি দখল এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের বদলী বাণিজ্য ও টেন্ডার বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণে সাবেক বিএনপি নেতা এবং আন্তর্জাতিক সোনা চোরাকারবারীর চক্রের বাংলাদেশের প্রধান গোল্ডেন মনির এবং বিতর্কিত তমা কনস্ট্রশানের মালিক এই সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য।

এই অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী নিজের অপকর্ম ঢাকার জন্য নানা পদক্ষেপ ইতিমধ্যে গ্রহণ করেছেন। তিনি যে স্থানে বর্তমান অধিষ্ট হয়েছেন পূর্বে যিনি অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন এর চেয়েও আরও বড় দুর্নীতি পরায়ন। তিনি যোগদানের পরই গণপূর্ত অধিদপ্তরে নানা গুঞ্জন চলছে। এই অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন, রাষ্ট্রীয় গণভবন, বঙ্গভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *