‘কাদের ভাইয়ের এই চেহারা দেখবো কল্পনাও করিনি’

নিউজ ডেস্ক: খুব বেশিদিন বাঁচতে চাননি বর্ষীয়ান অভিনেতা আবদুল কাদের। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, আর ছয় মাস বাঁচতে চান তিনি। কিন্তু ছয় মাস নয়, ছয় দিনেরও অনেক আগেই সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন জনপ্রিয় এই অভিনেতা। শনিবার সকাল ৮টা ২০ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

এই অভিনেতার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে শোবিজ মহলে। তার বিদায় মেনে নিতে পারছেন না কেউই। তেমনি প্রিয় এই মানুষটির বিদায়ে বিষণ্ণ হয়ে পড়েন বিনোদন অঙ্গনের জনপ্রিয় উপস্থাপক হানিফ সংকেত। তার প্রতি স্মৃতিচারণা করে হানিফ সংকেত তার ফেসবুকে লিখেন, চলে গেলেন ‘ইত্যাদি’র আরো একজন নিয়মিত শিল্পী, সবার প্রিয় অভিনেতা আব্দুল কাদের। প্রায় পঁচিশ বছর ধরেই তিনি ‘ইত্যাদি’র অত্যন্ত জনপ্রিয় পর্ব ‘মামা-ভাগ্নে’র ‘মামা’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তিনি নিজে যেমন এই চরিত্রটিকে ভালোবাসতেন, তেমনি দর্শকদের কাছেও প্রিয় ছিলো এই ‘মামা’ চরিত্রটি। অত্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্খল জীবন-যাপন করতেন কাদের ভাই। দেখে কখনো মনেই হয়নি এত বড় একটি রোগ তাঁর শরীরের এতটা ক্ষতি করে ফেলেছে।

তিনি আরো লিখেন, গত ৩০ অক্টোবর প্রচারিত ‘ইত্যাদি’ই ছিলো কাদের ভাইয়ের জীবনের শেষ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানটির ধারণের সময়ই কাদের ভাইকে কিছুটা অসুস্থ ও মলিন দেখাচ্ছিলো। আগের সেই উচ্ছ্বাস ছিলো না। ধারণ শেষে যাবার সময় বলেছিলেন তাঁর শরীরটা ভালো যাচ্ছে না। দোয়া চাইলেন। এরপর হঠাৎ করে শুনলাম তিনি চেন্নাইয়ের হাসপাতালে। ভিডিও কলে কথা হলো। মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি, নাকে অক্সিজেন মাস্ক। কাদের ভাইয়ের এই চেহারা দেখবো কখনও কল্পনাও করিনি। আমাকে দেখে আবেগে কেঁদে ফেললেন। এরপর চট্টগ্রাম বিমান বন্দরে নামার পর আবার কথা হলো। বললেন, ‘দেশের মাটিতে এসেছি, দোয়া করবেন যাতে আবার একসাথে কাজ করতে পারি।’ আবারও সেই কান্নাভেজা কণ্ঠ। আরো ৬টি মাস বাঁচতে চেয়েছিলেন কাদের ভাই কিন্তু মৃত্যু তাকে সে সুযোগ দেয়নি। এত দ্রুত যে তিনি এতটা অসুস্থ হবেন এবং আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন তা কল্পনাও করিনি।

এই অভিনেতার প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে তিনি লিখেন, কাদের ভাই শুধু ‘ইত্যাদি’র নিয়মিত শিল্পীই ছিলেন না, ছিলেন ‘ইত্যাদি’ পরিবারের একজন সদস্য। গুণী এই অভিনেতার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমরা তাঁর জন্য মাগফেরাত কামনা করছি এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

আবদুল কাদের অনেকদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। তার সারা শরীরে ক্যান্সার জটিল আকারে ছাড়িয়ে পড়েছিল। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে তাকে গেল ৮ ডিসেম্বর ভারতের চেন্নাইয়ের ভেলোর শহরের সিএমসি হাসপাতালে নেয়া হয়।সেখানে চিকিৎসা শেষে তাকে আবার দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। অবশেষে সব চিকিৎসার ঊর্ধ্বে চলে গেলেন তিনি। নিভে গেল দারুণ উচ্ছ্বাসে ভরা এক প্রাণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *