মার্কিন নাগরিক অধিকার নেতা ম্যালকম হত্যার নেপথ্যে পুলিশ-এফবিআই!

অনলাইন ডেস্কঃ

যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত নাগরিক অধিকার নেতা ম্যালকম এক্সকে হত্যায় নিউইয়র্কের পুলিশ ও এফবিআইয়ের যোগসাজশ ছিল। প্রয়াত এক গোয়েন্দা পুলিশ কর্মকর্তার চিঠির বরাতে তার পরিবার এ দাবি করেছে।

আল-হাজ্জ মালিক আল-শাব্বাজ নামেও তিনি পরিচিত ছিলেন।

যদিও ১৯৬৪ সালে ন্যাশন অব ইসলাম থেকে নিজেকে আলাদা করে ফেলেছিলেন ম্যালকম। নিউইয়র্কের অডোবন বলরুমে বক্তৃতা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তাকে হত্যা করা হয়। তাকে গুলি করার জন্য ন্যাশন অব ইসলামের তিন সদস্যকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও ওয়াশিংটন পোস্ট এমন খবর দিয়েছে।

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ওই চিঠিটি প্রকাশ করা হয়। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের সাবেক গোয়েন্দা রেমন্ড উড ওই চিঠি লেখেন। রেমন্ডের চাচাতো ভাই রেগি উডও সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন।

চিঠিতে বলা হয়, অপরাধ সংঘটনে ম্যালকম এক্সের নিরাপত্তা টিমের দুই সদস্যকে তিনি প্রলুব্ধ করেছিলেন। আর এটা করতে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের সুপারভাইজার তাকে বাধ্য করেছিল। এর পর নাগরিক অধিকার নেতাকে গুলি করে হত্যার দুদিন আগে ওই কর্মীদের গ্রেফতার করা হয়।

রেমন্ড উড বলেন, নিরাপত্তাকর্মীদের গ্রেফতারের কারণে ম্যালকম এক্সের বক্তৃতা দেওয়ার সময় বলরুমের নিরাপত্তা দেওয়ার কোনো লোক থাকল না। তাকে হত্যায় নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ ও এফবিআইয়ের মধ্যে এটি নিখুঁত ষড়যন্ত্র ছিল।

চিঠিতে রেমন্ড উড বলেন, আমার তত্ত্বাবধায়কের নির্দেশনায়, আমি নাগরিক অধিকার গোষ্ঠীর কর্মী ও নেতাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করেছিলাম।

তবে ঐতিহাসিকদের দাবি, ভুল লোকদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি সি ভ্যান্স গত বছর বলেন, মামলাটি আবার পর্যালোচনা করা হবে।

নিউইয়র্ক পুলিশ বলছে, এ মামলা সংশ্লিষ্ট সব ধরনের নথি জেলা অ্যাটর্নিকে সরবরাহ করা হয়েছে। যদি এখন কোনো পর্যালোচনা করা হয়; তবে তাতেও সহায়তা করা হবে।

ম্যালকম এক্সের মেয়ে ইলিয়াস শাব্বাজ বলেন, বাবার মৃত্যু পরিস্থিতি ঘিরে আমি সবসময় অনিশ্চয়তায় থাকছি। এ ঘটনায় তিনি নতুন করে তদন্ত দাবি করেন।

রেমন্ড উড বলেন, আমি ১৯৬৪ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত নিউইয়র্ক শহরের একজন কৃষ্ণাঙ্গ গোয়েন্দা ছিলাম। আমি এমন পদক্ষেপে অংশ নিয়েছিলাম, যা ছিল মর্মান্তিক ও কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য ক্ষতিকর। আমার তত্ত্বাবধায়কের নির্দেশে আমি নাগরিক অধিকার গোষ্ঠীর নেতাকর্মীদের অপরাধ করতে প্রলুব্ধ করেছিলাম।

তিনি আরও জানান, অপরাধমূলক কার্যক্রমের সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহে নাগরিক অধিকার গোষ্ঠীর সঙ্গে মিশে যাওয়ার জন্য নিউইয়র্ক পুলিশ আমাকে চাকরি দিয়েছিল।

তবে এসব কাজে যুক্ত হতে অস্বীকৃতি জানিয়ে চাকরি থেকে অব্যাহতি চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার সুপারভাইজার তাকে বলেছেন, যদি সে এ রকম সিদ্ধান্ত নেয়—তবে মিথ্যা অভিযোগে তাকে ফাঁসানো হবে।

‘স্ট্যাচু অব লিবার্টিতে বোমা হামলার একটি মিথ্যা ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয় ম্যালকমের নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে। পরে তাদের গ্রেফতার করা হয়। আর এটা করেছেন আমার সুপারভাইজার।’

ম্যালকম এক্সকে হত্যার সময় অডোবন বলরুমে থাকতে রেমন্ড উডকে নির্দেশ দেওয়া হয়। ঘটনাস্থল ত্যাগের সময় প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে দেখে ফেলেছেন। কিন্তু তার কর্মকাণ্ড এবং এফবিআই ও নিউইয়র্ক পুলিশের গোপনীয়তা ঢাকতে খলিল ইসলাম নামে একজনকে গ্রেফতার করে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

অন্ত্রের ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার আগে রেমন্ড উড এই চিঠি লেখেন এবং মৃত্যুর পর তা প্রকাশে ভাইয়ের ছেলেকে অনুরোধ করেন। কিন্তু ২০১২ সালে তিনি ক্যানসার থেকে রেহাই পান। ২০২০ সালের ২৪ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

আর ম্যালকম এক্সকে হত্যার ৫৬তম বার্ষিকী পালন করা হয়েছে রোববার। ওই চিঠি সম্পর্কে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব জেন সাকিকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আমি সেটি দেখিনি। যদি আপনি এটা আমাকে দিতে চান, তবে ব্রিফিংয়ের পর তা পড়ার সুযোগ পেলে আমি সন্তুষ্ট হব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *