ভ্যান চালক থেকে দাদা বাহিনী

অনলাইন ডেস্কঃ

লহ্মীপুরের রামগঞ্জ থেকে জীবিকার জন্য ঢাকায় আসেন মজিদ। তখন তার নামের আগে পরে কোন বিশেষণ না থাকলেও কারওয়ান বাজারে কাঁচামাল টানার জন্য ভ্যান চালাতেন। এরপর পরিবর্তন করেছেন পেশা, গড়ে তুলেছেন দাদা বাহিনী। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের থেকে আদায় করতেন চাঁদা। এরপর নামের সঙ্গে যোগ হয়েছে মো. মজিবুর রহমান শেখ ওরফে মজিদ ওরফে রাসেল।কারওয়ান বাজার এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করা এই দাদা বাহিনীর অন্যতম সদস্য মজিদকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগ।

পুলিশ বলছে, দাদা গ্রুপের সদস্যদের কথামতো নির্ধারিত সময়ে চাঁদা না দিত তাদের মারাত্মকভাবে কুপিয়ে আহত করা হতো।

বুধবার কথিত দাদা বাহিনীর অন্যতম এই সদস্য মো. মজিবুর রহমান শেখ ওরফে মজিদ ওরফে রাসেলকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার দক্ষিণ বেগুনবাড়ি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির তেজগাঁও গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল।

এ প্রসঙ্গে ডিবির তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. শাহাদত হোসেন সূমা বলেন, কথিত এই দাদা বাহিনীর সদস্যরা কারওয়ান বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা দাবি করতো। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে দাদার নির্দেশে তার বাহিনীর লোকজন ধারালো চাপাতি এবং অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আকস্মিক হামলা করে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করতো।

ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, এমন অসংখ্য ঘটনা ঘটলেও ভয়ে মুখ খুলত না কেউ। পরে পুলিশের তৎপরতায় দাদা গ্রুপের এমন সব অভিযোগের পর গত বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে তেজগাঁও থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়। এ মামলা দুটির তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিবির তেজগাঁও জোনাল টিম।

অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, মামলা দুটি তদন্তের সময় গত বছরই দাদা বাহিনীর দুইজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। প্রথমে মামুন ও মামুন পাটোয়ারি নামে দাদা বাহিনীর দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে এই বাহিনীর মজিদসহ বেশ কয়েক জনের নাম পাওয়া যায়। তাদের দেয়া তথ্যমতে গতকাল বুধবার দক্ষিণ বেগুনবাড়ি এলাকা থেকে দাদা মজিদকে গ্রেপ্তারর করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ব্যবহৃত একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার মজিদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় অস্ত্র আইনে আরো একটি মামলা করা হয়েছে বলে জানান গোয়েন্দা এই পুলিশ কর্মকর্তা। এছাড়া তাকে রিমান্ডে নিয়ে আরো তথ্য জানার চেষ্টা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *