চীনে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাঁধ নির্মাণ

অনলাইন ডেস্কঃ

সরাসরি উদ্ভিদ ও প্রাণীকুলের জন্য হুমকি থাকার পরেও বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাঁধ ‘বাইহেতান’ এর কাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করেছে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ চীন। চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়না’র (সিপিসি) শততম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নির্ধারিত সময়ের মাঝে বাঁধটি সম্পন্ন করলো দেশটি।

এদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয় অঙ্গীকার করেছেন আগামী ২০৬০ সালের মাঝে দেশটি সম্পূর্ণ কার্বন নিরপেক্ষ দেশে পরিণত হবে। তার কথার প্রতিফলন হিসেবে তড়িঘড়ি করে পরিবেশের কথা চিন্তা না করেই এই প্রকল্পটি সম্পন্ন করেছে দেশটি মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই প্রকল্প নিয়ে চীনের স্থানীয় আবাস, উদ্ভিদ ও প্রাণীকুলের পরিবেশগত ধ্বংস এবং এশিয়ার দীর্ঘতম নদী ইয়াংজির স্থানীয় প্রজাতির শুশুকের বিপন্ন হওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে।

এরি মাঝে বাঁধটি নিয়ে কথা বলতে শুরু করেছেন কিছু পরিবেশ বিশেষজ্ঞ গ্রুপ এই বাঁধের কারণে ইয়াংজি নদীর পানিতে পলির মিশ্রণ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে লেখালেখিও হয়েছে গণমাধ্যমে। নেদারল্যান্ডস ভিত্তিক এলসেভিয়ার তাদের একটি জার্নালে এ সংক্রান্ত লেখা প্রকাশ করেছে। সেখানে লেখক ব্যাখ্যা দিয়ে তুলে ধরেছেন নদীর উপরে নির্মিত এই বাঁধ কিভাবে মানুষকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। এতে মানবদেহের স্বাস্থ্যের বিপর্যয় ও নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

এই ধরনের প্রকল্প যে কোনো নদীর উপকূল ও তীরবর্তী মানববসতি, উদ্ভিদ এবং প্রাণীকুলের জন্য অনেকটা হুমকির কারণ। বিশেষজ্ঞদের দাবি, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাঁধ বাইহেতানও চীনের থ্রি জর্জেজ ড্যামের একই রকম পরিণতির মুখোমুখি হবে। কেননা, তাড়াহুড়ো করে যথাযথ পরিবেশগত ছাড়পত্র ও প্রয়োজনীয় গবেষণা ছাড়াই এত বড় আকারের অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করেছে চীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *