`বিদিশা কিছুই না`

অনলাইন ডেস্কঃ

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদের বলেছেন, বিদিশা কিছুই না। সে কোনো বিষফোঁড়াও না কোনো ফোঁড়াও না কিছুই না। সে ক্রিয়েশন অব মিডিয়া। সে এরশাদ সাহেবের সাবেক স্ত্রী এবং তার ভেতরে চটক আছে। এই চটকগুলো দিয়ে তিনি এগুলো করছে। তার পেছনে কিছু লোক আছে যারা টাকা দিচ্ছে। এরকম না হলে সে কোনো ফ্যাক্টর?সূত্রঃ বাংলা ইনসাইডার।

এরিক এরশাদের নতুন কমিটি ঘোষণা, বিদিশার বিষয় এবং জাতীয় পার্টির বর্তমান অবস্থার নানা দিক নিয়ে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেছেন জি এম কাদের।

জি এম কাদের বলেন, জাতীয় পার্টিতে অস্থিরতা তৈরি হয় নি। এই অস্থিরতা তৈরি করেছে মিডিয়া। এটা কোনো অস্থিরতা না। এটা আমার ব্যক্তিগত ধারণা আর কি। আমি সেদিন মিডিয়াকে বলেছি, এখানে একজন-দুইজন জুটেছে যারা বিভিন্নভাবে প্রচুর টাকা করেছে তারা ওই টাকাগুলোকে খরচ করছে এই ক্ষেত্রে। আর সেটা কি নিউজ হবে। তোমাদের এডিটরিয়াল আছে, মিডিয়ার একটা নীতি আছে সেগুলোর বাইরে এই ধরনের কোনো নিউজ হতে পারে। নিউজ করতে গেলে আইটেমটা তো নিউজেবল হতে হবে। এসব চটকদার নিউজ যখন সমস্ত মিডিয়াতে আসে তখন মানুষ বিভ্রান্ত হয় এবং দায়িত্বশীল মিডিয়ার কখনোই এটা করা উচিৎ না।

তিনি বলেন, বিদিশা কিছুই না। সে কোনো বিষফোঁড়াও না কোনো ফোঁড়াও না কিছুই না। সে ক্রিয়েশন অব মিডিয়া। সে এরশাদ সাহেবের সাবেক স্ত্রী এবং তার ভেতরে চটক আছে। এই চটকগুলো দিয়ে তিনি এগুলো করছে। তার পেছনে কিছু লোক আছে যারা টাকা দিচ্ছে। এরকম না হলে সে কোনো ফ্যাক্টর? সে কোনো রাজনীতি করে নি, কোনো দিন কোনো কিছুর মধ্যে ছিল না। রাজনীতির তার কোনো ইতিহাস নাই, বর্তমান নাই এই ভবিষ্যৎ ও নাই। তিনি এরশাদ সাহেবের কিছু দিনের স্ত্রী এবং এরশাদ সাহেব শেষপর্যন্ত তাকে অসম্মানজনকভাবে তালাক দিয়ে বের করে দিয়েছে এবং তাকে জেলে দিয়েছে প্রতারক হিসেবে। সেখানে বিদিশার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সেখানে বাচ্চাটা তার কিনা এটা নিয়ে এরশাদ সাহেবের সন্দেহ হওয়াতেও মামলা হয়েছে। পরবর্তীকালে এটা যদিও ওইরকমভাবে প্রকাশ হয় নি কিন্তু ওই ধরনের ঘটনা তো আসছে যে, বাচ্চাটার বাবা কে বা ইত্যাদি বা মা কে? সে যে নিজে মা কিনা এগুলো নিয়ে তো কোর্টে প্রশ্ন আসছে। কেননা যেদিন সে বাচ্চার জন্মদিন বলছে সেদিন দেখা যাচ্ছে সে সিঙ্গাপুর ইত্যাদি নানা কথা আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি। আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে কথাগুলো জেনেছি। আমি এগুলো নিয়ে সব সময় একটা সন্দেহের মধ্যে থাকতাম। তবে এগুলো নিয়ে আমি মাথা ঘামাই নি। আমি এগুলো নিয়ে আগ্রহী নয়।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, রওশন এরশাদ স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি আমাকে একবার না চার-পাঁচবার টেলিফোন করেছে। তিনি সাধারণত কাউকে টেলিফোন করেন না বা কারোর টেলিফোন ধরেনও না। কিন্তু এই ব্যাপারে তিনি আমাকে না পেয়ে আমার স্ত্রীকে দুই তিনবার ফোন করে বলেছেন যে, আমি এগুলোর মধ্যে নেই। আমার চেয়ারম্যান হওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই। আমি তাকেই পছন্দ করি এবং আমিই সব সময় চেষ্টা করেছি সে যেনো চেয়ারম্যান হয় এবং ভালোমতো কাজ করতে পারে। সে ছাড়া পার্টি চলবে না। এই কথাগুলো আমরা স্ত্রী আমাকে ম্যাসেজ করেছে। বাসায় ফিরে আমি রওশন এরশাদকে টেলিফোন করলাম। তখন তিনি টেলিফোন ধরে বললেন, এগুলো কে করলো কেন করলো আমি জানি না। আমি এতে নেই। বরং আমি তোমার ভাইকে বলেছিলাম, ওকে ছাড়া অন্য কাউকে দিলে দল চলবে না। এগুলো ওনার কথা। তিনি বলেছেন, দল ভালো চলছে এবং আমি মনে করি না এতে কোনো অসুবিধা আছে।
জাতীয় পার্টির অনেক নেতাই বিদিশার সাথে গোপনে যোগাযোগ করছে এ কথা আসছে এরকম প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই জিনিষটাকে একটা ধুম্রজাল সৃষ্টি, একটা সমস্যার সৃষ্টি এগুলো করছে মিডিয়া। আমাদের দেশের মিডিয়ার স্বাধীনতা নিয়ে আমি সব সময় সংগ্রাম করেছি। এখন থেকে নয়, সব সরকারের আমলে আমি সংগ্রাম করেছি। আমি যখন মন্ত্রী ছিলাম তখনও আমি মিডিয়ার ওপরে হস্তক্ষেপ সব সময় অপছন্দ করতাম। এখন সেই মিডিয়াতে এসব আসছে। মিডিয়ার এগুলো বলা উচিৎ যে, কে আলাপ করছে, কখন আলাপ করেছে। যেমন, আমি সেদিন মিডিয়াকে বললাম, তোমাদের তো এটা প্রথম দরকার ছিল যাদের যাদের নাম এসেছে তারা এর মধ্যে আছে কিনা। বিশেষ করে রওশন এরশাদ। অন্য লোকের কথা আমি পাত্তা দেই না। যেহেতু তারা অতটা গুরুত্বপূর্ণ ফ্যক্টর না। রওশন এরশাদ আমাদের দলে আছেন এবং একটি সম্মানজনক পজিশনে আছেন। তিনি যদি আরেকটা দলের মধ্যে বা কোনো কিছুর মধ্যে জড়িত হন তাহলে এটা দলের জন্য একটা ইস্যু। এটা তো আগে ভেরিফাই করতে হবে যে তিনি আছেন কিনা। তারপরে তুমি এটা লিখবা। এটা তো পছন্দমতো লেখার জিনিষ না।

সংসদে সরকারের সমালোচনার বিষয়ে জি এম কাদের বলেন, আমরা যেটা সংসদে করছি সেটা আমরা আগেও করেছি। আমি নেতা ছিলাম না। এবার আমি নেতা হিসেবে কাজ করেছি। আমাদের দলটাকে সংবিধানিকভাবে দায়িত্বই হচ্ছে সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া তাদের সমালোচনা করা। আমরা কিন্তু অফিসিয়ালি বিরোধী দল। এটা আমাদের জব ডেসক্রিপশনের মধ্যে পরে। এটা আমাদের দায়িত্বের অংশ। কাজেই এটা নতুন কোনো বিষয় না। এটা যদি কেউ না করে তাহলে বোঝা যাবে সে তার দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছে। আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করছি। এটার সাথে অন্য কিছুর সম্পর্ক নেই। আমার যতটুকু জ্ঞান আছে এবং আমি যতটুকু জানি প্রধানমন্ত্রী এটাকে অপছন্দ করেন না। তিনি এগুলো শুনতে চান এবং আমরা চাই যে তিনি এগুলাে শুনতে চাক। আমাদের কথা ভুল হতে পারে। ভুল হলে তিনি এটা দেখবে যে ভুল হয়েছে। যদি কোনো কথা সঠিক হয় তাও তো তাকে আমরা একটি গাইডলাইন দিলাম। আমরা কো তার সরকারের পতন চাচ্ছি না। আমরা তো নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের বাইরে কিছু করছি না। আমরা যে কারণে সংসদে আছি সেই কারণটা আমরা ফুলফিল করছি। সরকারের ভালো বলার জন্য প্রচুর লোক আছে কিন্তু খারাপ বলার জন্য বা সরকারের যেই জিনিষগুলো চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে সেই জিনিষগুলো বলার দায়িত্ব আমাদের। আমাদের গাড়ি দেওয়া হয়েছে, জাতীয় সুযোগ সুবিধা রয়েছে, বেতন দেওয়া হচ্ছে এই জন্য। সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকারি দলের লোকরাও তার বিরুদ্ধে বলতে পারে।

তিনি বলেন, কেবিনেটের বাইরে যারা তারা সবাই বেসরকারি সদস্য। এটা আমাদের রুলস এন্ড প্রসিডিউর এ আছে। সরকারি দলেরও যারা ইলেকটেড হয়েছে কিন্তু সরকারের অংশ নয় তারাই বেসরকারি সদস্য। তখনই তো সরকারকে আমি জবাবদিহিতা করতে পারবো। সরকারে থাকবে ২০-৩০ জন তার বাইরে যে থাকবে ৩২০ জন তারা সকলে মিলে সরকারকে জবাবদিহিতা করবে। এটিই সংসদীয় গণতন্ত্র। এটা অনেকেই জানে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *