যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা

অনলাইন ডেস্কঃ

বাংলাদেশে যেভাবে করোনার সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে তাতে শুধু করোনা মহামারী নয়, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাও ভেঙে পড়তে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, যেভাবে পরিস্থিতি চলছে এভাবে আর সাতদিন অব্যাহত থাকলে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেয়াই অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে না, অন্যান্য রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থাই ভেঙে পড়তে পারে। ইতিমধ্যে হাসপাতাল গুলোতে উপচে পড়া ভিড়। কোন হাসপাতালে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। এখন যেভাবে রোগী বাড়ছে এই হারে যদি রোগী বাড়তে থাকে তাহলে সামনের দিনগুলোতে হাসপাতাল চিকিৎসা দিতে পারবে না। এতো গেলো করোনা আক্রান্তদের পরিস্থিতি। কিন্তু করোনার এ বাড়তি চাপের কারণে অন্যান্য রোগে যারা আক্রান্ত তাদের চিকিৎসাও এখন কঠিন চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগছেন যেমন- ক্যান্সার, উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং কিডনির জটিলতা তাদের জন্য এখন হাসপাতালগুলো যেন মৃত্যুকূপ পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে যে, এই ধরনের রোগীরা করোনার ঝুঁকি নিয়েও হাসপাতালে যাচ্ছেন এবং সেখানে গিয়ে অনেকে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন।

বাংলাদেশে ঈদ উপলক্ষে ৮ দিনের জন্য শিথিল অবস্থা জারি করা হয়েছে। মানুষ এখন হাটে মাঠে ঘাটে ছুটে বেড়াচ্ছে, লঞ্চে বাসে ট্রেনে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। এরকম একটি পরিস্থিতিতে সারাদেশে সামাজিক সংক্রমণ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন বিশেষজ্ঞ বলছেন যে, এখন যেভাবে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে তাতে ঈদের পরেই এখন যে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর হার সেটি অনেক বাড়তে পারে। এরকম যদি বাড়তে থাকে তাহলে বাংলাদেশ নয় শুধু বিশ্বের কোন চিকিৎসা ব্যবস্থাই এই রোগীর চিকিৎসা পারবে না। ফলে একটা ভয়ঙ্কর অবস্থা তৈরি হতে পারে। ঘরে ঘরে মৃত্যুপুরী তৈরি হতে পারে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মানত এবং এই সময় যদি সবকিছু বন্ধ থাকতো তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যেত। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, ২৩ জুন থেকে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হবে। কিন্তু এই কঠোর লকডাউনের আগেই গত ৮ দিনে যে ঘটনাগুলো ঘটবে এ ঘটনাগুলো আমাদের পরিস্থিতিকে নাজুক করে দিবে এবং সেটি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

বাংলাদেশ গত বছরের মার্চে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিল এবং তারপর সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল। ডিসেম্বর নাগাদ করোনা পরিস্থিতি আস্তে আস্তে কমে আসে এবং জানুয়ারি মাসের অনেক কমে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেই সময় যদি সামাজিক বিধিনিষেধগুলো অক্ষুণ্ণ রাখা যেত তাহলে আজকের পরিস্থিতি হত না। এর পাশাপাশি আরেকটি কারণ গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন চিকিৎসক বিশেষজ্ঞরা। তা হচ্ছে, ভারতীয় ডেল্টা ভেরিয়েন্টের অনুপ্রবেশ। এই ডেল্টা ভেরিয়েন্টের ফলে এখন করোনার সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ রকম পরিস্থিতিতে করণীয় কি জানতে চাইলে চিকিৎসকরা মনে করছেন যে, প্রধান করণীয় হলো মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানা। কিন্তু গত কয়েকদিনে যেভাবে মানুষ ঘরমুখে ফিরছে তাতে এই স্বাস্থ্যবিধি মানা আদৌ সম্ভব বলে মনে হচ্ছে না। আবার ইতিমধ্যে গরুর হাটও শুরু হয়েছে, সেখানেও স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। এই জিনিসগুলোর ফলে যে পরিস্থিতি তৈরি হবে তার চাপটা পড়বে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর। তখন করোনা এবং অন্যান্য রোগীদের চিকিৎসা কিভাবে দেওয়া হবে সেটি একটি জটিল বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *