পিএম বাইরে গেলেই আমাদের এমপি ডোনেশন দেয়ঃ উপজেলা নেতার এমন বক্তব্যে ক্ষুদ্ধ খুলনা জেলা আওয়ামীলীগ

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

পিএম বাইরে গেলেই আমাদের এমপি তাকে ডোনেশন দেয় এমন কথা বলায় খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এফ এম অহিদুজ্জামান অহিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে আওয়ামীলীগ। এমন তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড সুজিত অধিকারী জানান, আমি ব্যক্তিগতভাবে এই ঘটনার নিন্দা জানাই, দলের দপ্তর সম্পাদককে নিন্দা জানিয়ে প্রেস রিলিজ দিতে বলা হয়েছে, আজ বাদে কাল ঈদ। তবে এই বিষয়ে জেলা সভাপতিকে ফোন করে অহিদের প্রসঙ্গ তুলতেই তিনি কথা না বলে লাইন কেটে দেয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রথম সময়ের সাথে মঙ্গলবার বিকেলে আলাপকালে খুলনা জেলা আওয়ামীলীগের এই বর্ষীয়ান আইনজীবী নেতা সুজিত অধিকারী জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে অহিদ যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা ধৃষ্টতাপূর্ণ। ক্ষমার অযোগ্য। অশালীন এই বক্তব্য নিন্দনীয়।
এই অরাজনৈতিক কথা বার্তার ঘটনায় বঙ্গবন্ধু কন্যা নয়, সারা দেশের জনগণকেই অপমান করা হয়েছে। একজন সফল রাষ্ট্রনায়ককে এমন অবান্তর কথা বলা রীতিমতো অপরাধ। অমার্জনীয়। তিনি এই কথা বলে নেত্রীকে যেমন ছোট করেছেন, তেমনি জাতির সামনে আমাদেরকেও ছোট করেছেন। তার এই অসংলগ্ন কথা বার্তায় আমরা বিব্রত, লজ্জিত, ক্ষুদ্ধ। তাকে শুধু রাজনৈতিক শাস্তি নয়, আইনের আওতায় আনা উচিৎ। একই সঙ্গে তিনি বলেন, অহিদ দাবি করেছেন, তার এমপি, খুলনা জেলার এমপিদের টাকা দেন। তার এমপি বাদে, জেলায় আরও ৫ জন এমপি রয়েছন। সদরের এমপি বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র শেখ জুয়েল, শহরের আরেকজন এমপি, বর্ষীয়ান রাজনীতিক, শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। খুলনা- ১ আসনের এমপি আরেক বর্ষীয়ান রাজনীতিক, জাতীয় সংসদের হুইপ পঞ্চানন বিশ্বাস, খুলনা- ৫ আসনের এমপি সাবেক মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। আর খুলনা- ৬ আসনের এমপি সাবেক ছাত্রনেতা আখতারুজ্জামান বাবু। অ্যাড সুজিত অধিকারী জানান, আমাদের এই ৫ জন মাননীয় এমপিরা প্রত্যেকেই সমাজে প্রতিষ্ঠিত রাজনীতিবিদ, যাদের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার আছে। এরা কেউই কাঙ্গাল নয় অথচ ওহিদের ভাষায় এইসব এমপিরা তার এমপির কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নিয়ে চলেন,পক্ষান্তরে অন্য পাঁচ এমপিকে কাঙ্গাল বা পথের ফকির বানানো হয়েছে। অহিদের বক্তব্যমতে পাঁচ এমপিকে নিজ নিজ এলাকার জনগণের কাছেও ছোট করা হয়েছে। আমরা এসব বিষয়ে তার কাছে ব্যাখ্যা চাইবো। অহিদ কার হয়ে এমন কথা বললেন, কেন বললেন, আমাদের প্রাণের অনুভুতি, দেশ ও জাতির আশ্রয়স্থল নেত্রীসহ আমাদের মাননীয় এমপিদের ছোট করলেন, কাঙ্গাল বানালেন, এর উত্তর জানা দরকার। অহিদের এই অপরাধের প্রতিবাদ না করলে আমরাই বিবেকের কাছে অপরাধী হয়ে যাবো।
অ্যাড সুজিত অধিকারি জানান, ভিডিও চিত্রমতে এমপি সাহেব তো লাইভেই ছিলেন। তার উচিৎ ছিল, লাইভের মধ্যেই ওহিদকে কারেকশন করে দেয়া। তাতে উনি বিতর্কে জড়াতেন না, বরং খুলনা তথা দেশবাসীর কাছে হিরো হয়ে থাকতেন।

এদিকে দলের একাধিক সুত্র জানিয়েছে, ওহিদের এই বক্তব্যে দল ও সাধারণ জনগণের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণার সৃষ্টি করেছে। তার বক্তব্যের ভিডিও ফেস বুকে ইতমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। খুলনার অসংখ্য নেতা কর্মী এই ভিডিও দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে পাঠিয়েছেন। সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, দলের একজন যুগ্ম সম্পাদকের বাসায় ঈদের পর দিন গেট টুগেদার আছে। খুলনাতে অবস্থানরত জেলা শাখার নেতাদের এই গেট টুগেদার ও ডিনার পার্টিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তার বাসায় আমন্ত্রন জানিয়েছেন। জেলা সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সেখানে মিলিত হলে ওহিদের বিষয়ে আলোচনা করবেন এমনটি ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, তেরখাদা একটি অনুষ্ঠানে সোমবার খুলনা- ৪ আসনের এমপি আব্দুস সালাম মুর্শিদি ভিডিও কনফারান্সে যোগ দন। আব্দুস সালাম মুর্শিদী বক্তব্যে আসার আগে তেরখাদা উপজেলা আওয়ামিলীগের সভাপতি এফ এম অহিদুজ্জামান বক্তব্য দেন, পিএম দেশের বাইরে গেলে আমাদের এমপি ডোনেশন দেন, এর পরের লাইনেই তিনি বলেন, খুলনার এমপিরা তার কাছ থেকে (এমপি সালাম মুর্শিদী) টাকা নিয়ে চলেন।

নিচে ভিডিওটি দেখুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *