খুলনাঃ লিস্টেড বিএনপির সন্ত্রাসীর সাথে ইউএনওর সখ্যতাঃ ইউপি নির্বাচন থেকে বিরত রাখতে ইসিতে আবেদন

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক ইউনিটের লিস্টেড এক সন্ত্রাসী বিএনপি নেতার সাথে নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকীর সখ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন থেকে আলোচিত এই ইউএনওকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার আবেদন জানিয়েছে একাধিক প্রার্থী। বুধবার নির্বাচন কমিশন সচিব বরাবর করা আবেদনে তারা ইউএনও’র বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উত্থাপন করেছেন, অভিযোগের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী, জন- প্রশাসন মন্ত্রনালয়সহ দেশের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার নজরেও আনা হয়েছে। নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী আলোচিত এই বিএনপি নেতার সাথে সখ্যতার বিষয়টি অস্বীকার করে বৃহস্পতিবার সকালে সেল ফোনে অন লাইন নিউজ পোর্টাল প্রথম সময়কে বলেছেন, যাকে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, বিএনপি নেতা বলা হচ্ছে তিনি স্থানীয় একজন নির্বাচিত চেয়ারম্যান, জন- প্রতিনিধি। করোনাতে অক্সিজেন সিলিন্ডার হস্তান্তর এক অনুষ্ঠানে আমি এটেন্ড করেছিলাম। স্থানীয় প্রেস ক্লাবের কর্মরত সাংবাদিক ভাইদের দাওয়াত পেয়ে সেই প্রোগ্রামে গিয়েছিলাম।
আলাপকালে তিনি জানান, একজন ইউএনও হিসাবে আমি আমার দায়িত্ববোধ, কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন। স্থানীয় আওয়ামীলীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যানের নলেজে দিয়েই আমি সেই প্রোগ্রামে গিয়েছিলাম। আলাপকালে তিনি দাবি করেন, আমি রিটার্নিং অফিসার নই, কাউকে নির্বাচনে জিতিয়ে আনার প্রশাসনিক ক্ষমতাও আমার নেই তেমনি প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী হিসাবে সরকারের পলিসির বাইরে যাবার সুযোগ নেই। নির্বাচনে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি যাতে না ঘটে ইউএনও হিসাবে সেটিই আমার দায়িত্ব।

জানা গেছে, পাইকগাছা উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী আব্দুল মান্নান গাজী এক অভিযোগে বলেছেন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং খুন ও অস্ত্র মামলার আসামি এনামুল হক বিগত নির্বাচনে জনগণকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে অস্ত্র ও অর্থের জোরে আমার নিশ্চিত বিজয়কে ছিনিয়ে নেয়। আগামী ২০ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনকে সামনে রেখে একই ষড়যন্ত্র আবারও তিনি করছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এক্ষেত্রে ইন্ধন যোগাচ্ছেন। একাধিক মামলার আসামি এনামুলের সঙ্গে উক্ত ইউনিয়নে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। এনামুলের ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে জনগণ যাতে ভোট দিতে পারে এবং সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হয়, সেজন্য উক্ত ইউএনওকে নির্বাচনী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

অপর এক আবেদনে পাইকগাছা উপজেলার দেলুটি ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্র প্রার্থী দ্বিজেন্দ্রলাল মূল ইউএনও’র বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আশংকা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে ইউএনও কর্মকাণ্ড সংশ্লিষ্ট সকলকে ভাবিয়ে তুলেছে। নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য তিনি বিভিন্ন প্রার্থীর সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। সকল ভোটারের ভোটদান নিশ্চিত করতে ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে উক্ত ইউএনওকে নির্বাচন থেকে বিরত রেখে নিরপেক্ষ প্রতিনিধি নিয়োগের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, খুলনা জেলা প্রশাসক মনিরুজ্জামান তালুকদার সেল ফোনে জানিয়েছেন, পাইকগাছা ইউএনও’র বিরুদ্ধে এমন কোনও অভিযোগ তিনি পাননি, অভিযোগ পেলেই সত্যতা যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

উল্লেখ্য, পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকীকে গত ৩ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় বদলি করা হয়। তার বিরুদ্ধে মুজিববর্ষের গৃহনির্মাণে অনিয়মসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। ২০১৪ সালের ৩৩তম ব্যাচে যোগদানকারী এই কর্মকর্তা নিজেকে আওয়ামী পরিবারের সন্তান বলে দাবি করেছেন। তিনি ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর পাইকগাছায় যোগদান করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *