বিএনপির মূল লক্ষ্য নিরপেক্ষ সরকার আদায়

অনলাইন ডেস্কঃ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায়ে আন্দোলনের বিকল্প ভাবছে না। দলটির হাইকমান্ড নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনকে সামনে রেখে এ আন্দোলনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে চাইছে। নিরপেক্ষ ইসি গঠনসহ
তাদের মূল টার্গেট নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন। আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণে নানা উদ্যোগ নিয়েছে দলটির হাইকমান্ড। এর অংশ হিসেবেকেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আজ থেকে সিরিজ বৈঠকে বসছে বিএনপি।
আজ মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে তিনটায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে শুরু হওয়া এ সভা চলবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক হবে আজ। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ৭৩ জন ও ভাইস চেয়ারম্যান রয়েছেন ৩৫ জন। এদের মধ্যে কয়েকজন মারা গেছেন ও দলও ছেড়েছেন ইতোমধ্যে।

এছাড়া বর্তমানে বেশ কয়েকজন অসুস্থ। এসব কারণে আজকের বৈঠকে ৭০ জনের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও। তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন।

দলটির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের কয়েকজন নেতা বলেন, আজকের বৈঠকের মূল এজেন্ডা আন্দোলন। একটি কার্যকর আন্দোলন গড়ে তোলার কর্মকৌশল নিয়ে নেতাদের মত নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি আগামী নির্বাচন, দল পুনর্গঠন, আগামী জাতীয় কাউন্সিল, চেয়ারপারসনের মুক্তি, জোটের রাজনীতি, নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা-হামলাসহ সাম্প্রতিক নানা ইস্যুও উঠে আসবে বৈঠকে। তারপর হবে নির্বাহী কমিটির সদস্য, ৮১টি সাংগঠনিক জেলার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক। ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার একটি খসড়া তৈরি করা হবে নেতাদের মতামত নিয়ে। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের সঙ্গেও একই প্রক্রিয়ায় বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বিএনপিতে। সবার মতামতের পরই চূড়ান্ত করা হবে আন্দোলনের কৌশল।

এদিকে এখন থেকেই নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচনের দাবিতে সোচ্চার হচ্ছে বিএনপি। সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে সবাইকে একই সুরে কথা বলার জন্য ইতোমধ্যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে নেতাদের। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জোরালো বক্তব্য রাখছেন। গত শনিবার জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়।

বিএনপি সূত্র জানায়, আজকের বৈঠক নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে দলটির নেতারা। শেষ পর্যন্ত সুষ্ঠুভাবে সভা করা যাবে কিনা-তা নিয়েও অনেকে সন্দেহ পোষণ করছেন।

এক ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, আজকের সভায় বাগড়া দিতে পারে সরকার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে সভা বানচালের উদ্দেশ্যে নেতাদের হয়রানি করা হতে পারে বলেও মনে করছেন তিনি। তবে দলের আরেক নেতা বলেন, এমন আশঙ্কা থেকেই আমরা কোনো হোটেল বা অন্য কোথাও এ সভার আয়োজন করিনি। চেয়ারপারসনের দলীয় কার্যালয়ে সভা করার সিদ্ধান্ত নিই।

জানতে চাইলে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, দলের হাইকমান্ড তিন দিনব্যাপী ধারাবাহিক সভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমাদের সব প্রস্তুতি শেষ। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অসুস্থতার কারণে কয়েকজন আসতে পারবেন না। আশা করি সরকার আমাদের দলীয় সভা বানচালের চেষ্টা করবে না।

স্থায়ী কমিটির গত কয়েকটি বৈঠকে সব নেতাই একমত হন, দেশে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হলে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের প্রয়োজন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ও ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন প্রমাণ করে বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় রেখে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। এই অবস্থায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে করণীয় ঠিক করতে হবে। সেজন্য দলের সবার মতামত নেওয়ার প্রয়োজন। সবার মতের ভিত্তিতে কর্মকৌশল চূড়ান্ত করলে তারাও উৎসাহ পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *