রাজনীতিতে আগাম নির্বাচনী হাওয়া

অনলাইন ডেস্কঃ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকী ২ বছরের বেশী সময়। কিন্তু এখনই দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচন কেন্দ্রিক আলোচনা শুরু হয়েছে। নতুন নির্বাচন কমিশন, নির্দলীয় সরকার ইত্যাদি ইস্যু নিয়েই রাজনৈতিক অঙ্গনে নানামুখী আলাপ আলোচনা চলছে। এর ফলে করোনার প্রকোপ কমে যাওয়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা বইতে শুরু করেছে।

নির্বাচন নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে প্রথমত: নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন নিয়ে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে। চলতি মাসেই রাষ্ট্রপতি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করবেন। আওয়ামী লীগ সার্চ কমিটির মাধ্যমে অথবা নির্বাচন কমিশন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বিতর্কহীনভাবে নতুন কমিশন গঠন চায়। অন্যদিকে, বিএনপি নির্বাচন কমিশন যেন নিরপেক্ষ হয় যেজন্য বিএনপি রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে এক প্লাটফরমে দাঁড়াতে চায় আবার এনিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনাও করতে চায়। কিন্তু বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিএনপি আসলে আন্দোলনের একটি পরিস্থিতি করতে চায়।

নির্বাচনী হাওয়া আরো বেগ পায় দীর্ঘ প্রায় এক বছর পর অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী বৈঠকের পর। ঐ বৈঠক আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচন প্রস্তুতি শুরু করার নির্দেশনা দেন। ৯ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকের পরপরই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া বাংলাদেশে আর কোন নির্বাচন করতে দেয়া হবে না।’ বিএনপি আজ থেকে সিরিজ বৈঠক করছে। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন, নির্দলীয় সরকারের দাবীতে আন্দোলন নিয়ে বিএনপি টানা তিন দিনব্যাপী বৈঠক করছে। লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া বৈঠকে স্কাইপে যুক্ত হবেন। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কেন্দ্রিক আন্দোলন নিয়ে তারা বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করবে। বিএনপির মধ্যে দলীয় সরকারের অধীনে আর কোন নির্বাচনে না যাওয়ার এক প্রবল স্রোত আছে। তাই সামনের দিনগুলোতে বিএনপি নির্বাচন কেন্দ্রিক আন্দোলনে মনোযোগী হতে পারে। তবে আন্দোলন না নির্বাচন এই দ্বিধায় শেষ পর্যন্ত বিএনপির পরিণতি কি হয় সেটিই দেখা বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *