আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস আজ

অনলাইন ডেস্কঃ

আজ বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস। দিবসটি স্লোগান হলো ‘তথ্য আমার অধিকার, জানতে হবে সবার।’ দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানন্ত্রী পৃথক ‍পৃথক বাণী দিয়েছেন।

তথ্য জানার অধিকারের বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ২০০২ সাল থেকে দিবসটি বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালে ইউনেস্কো এবং ২০১৯ সালে জাতিসংঘ দিবসটিকে আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সেবা বৃস্তিত হওয়ার পাশাপাশি ডিজিটাল বৈষম্যের কারণে কেউ যেন পিছিয়ে না থাকে, এ বছর এ বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ইউনেস্কো। দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় বিভিন্ন সুবিধা ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, তথ্য অধিকার আইনের আওতায় সুবিধাদি ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হবে। সারা দেশে প্রায় ৫ হাজার ২৮৬টি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার গড়ে তোলার মাধ্যমে তথ্যসেবা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ আর স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা।’ অন্যাদিকে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষের শুভক্ষণে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন পূরণে সবাইকে ধৈর্য, সাহস ও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতা নাগরিকগণের অন্যতম মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। তথ্য প্রাপ্তি ও জানা প্রতিটি মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। তথ্যের অবাধ প্রবাহ যেমন নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সহায়ক, তেমনি সমাজ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জনগণের ক্ষমতায়নকেও সুদৃঢ় করে। জনগণের এ অধিকারকে প্রাধান্য দিয়েই সরকার ‘তথ্য অধিকার আইন-২০০৯’ প্রণয়ন এবং আইনের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠা করে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষের এই শুভক্ষণে বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য সবাইকে ধৈর্য, সাহস ও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।

বাংলাদেশেও সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালিত হচ্ছে। তথ্য অধিকার দিবস উপলক্ষে তথ্য কমিশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কেন্দ্রীয়ভাবেও ঢাকায় আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। বিভাগ, জেলা এবং ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার ও পৌর ডিজিটাল সেন্টারগুলোকে যুক্ত করে উপজেলা পর্যায়ে পৃথক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

এছাড়াও তথ্য কমিশন দিবসটি পালনের জন্য বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সংবাদপত্রে ক্রোড়পত্র প্রকাশ, সংবাদ সম্মেলন এবং টেলিভিশন ও বেতারে টক শো প্রচার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *