এখনও গিয়াস উদ্দিন আল মামুন?

অনলাইন ডেস্কঃ

গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, একমাত্র পরিচয় তারেক জিয়ার ঘনিষ্ঠতম বন্ধু। ১৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে রয়েছেন। একাধিক মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন। কিন্তু তারপরও বিএনপির রাজনীতিতে তিনি পরিত্যক্ত বিষয় নন। বরং সাম্প্রতিক সময়ে গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের নাম বার বার সামনে আসছে।

দলের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণে ক্ষেত্রে গিয়াস উদ্দিন আল মামুন ভূমিকা রাখছেন এমন কথা বিএনপিতে শোনা যাচ্ছে। জেলে বসেই তিনি কলকাঠি নাড়াচ্ছেন। বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে কথা বলছেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ ও নির্দেশনা দিচ্ছেন। তারেক জিয়ার সঙ্গে তার যোগাযোগ আছে কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত নন বিএনপির নেতা কর্মীরা। কিন্তু তারেক জিয়ার বিএনপিতে এখনও গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের প্রভাব প্রতিপত্তি আগের মতোই রয়েছে।

২০০১ সালে বিএনপি জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর আলোচনা আসে গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের নাম। সেই গিয়াস উদ্দিন আল মামুন আসতে আসতে ক্ষমতা কেন্দ্রের অন্যতম চালকে পরিচালক হন। তার কথায় প্রশাসনের পদোন্নতি, পুলিশের পদোন্নতি, সরকারি টেন্ডারদের ভাগ-বাটোয়ারা হতো।

গিয়াস উদ্দিন আল মামুন এক ছায়া সরকারের উপ প্রধানমন্ত্রী হয়ে উঠেছিলেন। তার প্রধান কারণ হলো তারেক জিয়ার সঙ্গে তার বন্ধুত্ব। তারেক জিয়ার ছোট বেলার বন্ধু ছিলেন গিয়াস উদ্দিন আল মামুন। এবং পরবর্তীতে তার বিজনেস পার্টনার হয়ে উঠেন। গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের সমস্ত অপকর্মকে বৈধতা দিতেন তারেক জিয়া। তারেক জিয়ার ছত্র-ছায়ায় গিয়াস উদ্দিন আল মামুন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেন এবং বিনা বাঁধায় সমস্ত অপকর্ম করেন।

২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সালে হাওয়া ভবনে সমস্ত অর্থ খরচ বহন করতেন এই গিয়াস উদ্দিন আল মামুন। এই সময় ফুলে ফুটিয়ে উঠে তার ব্যবসা। একের পর এক শিল্প কারখানা স্থাপন করতে থাকেন যেন আলাদীনের চেরাগের মতো। পাশাপাশি শুরু করেছিলেন দুর্নীতি লুটপাট। হাওয়া ভবন কেন্দ্রিক যে দুর্নীতি, লুটপাটের সূচনা হয়েছিল সেই সূচনার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন গিয়াস উদ্দিন আল মামুন।

গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের মত ছাড়া সরকারের কোন টেন্ডারের সিদ্ধান্তই হতো না। আর এই সমস্ত অপকর্মের জন্যই ওয়ান ইলেভেন সরকার গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে গ্রেফতার করে এবং বিদেশে তার যে বিপুল পরিমাণ অর্থ রয়েছে তার কিছুটা উদ্ধার চেষ্টা করে। কিন্তু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের পুরো অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এমনটি বলছে একাধিক সূত্র। এখন জিয়ার গিয়াস উদ্দিন আল মামুন জেলে থাকলেও রাজার হালেই দিন কাটাচ্ছেন বলে বিভিন্ন মহল থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে অত্যন্ত ৩ জন বিএনপি নেতা বলেছেন জেল থেকেই তিনি বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দিচ্ছেন, পরামর্শ দিচ্ছেন।

বিএনপির অনেক নেতা মনে করেন ২০০৬ সালে বিএনপির দুর্ভাগ্য এর অন্যতম কারণ হলো গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের মতো কিছু দুর্বিত্তরা। বিএনপির অনেক নেতারা অকপটে বলেন মামুনরাই দলের বদনাম করেছে। মামুনদের জন্যই দল ডুবেছে, কিন্তু তারপরও গিয়াস উদ্দিন আল মামুনরা বিএনপির কলকাঠি নাড়ান কিভাবে সেই প্রশ্ন বিএনপির নেতা কর্মীদের মধ্যে।

উল্লেখ্য যে, তারেকের যে বিদেশে অবৈধ সম্পদ, সেই সম্পদের প্রায় সবই গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের নামে। এবং গিয়াস উদ্দিন আল মামুনই তারেককে ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত পরিচালনা করতেন। যে অর্থ আত্মসাতের মামলায় তারেক জিয়া হাইকোর্ট থেকে দণ্ডিত হয়েছেন সেই মামলায় তারেক জিয়ার যে ইন্টারন্যাশনাল ক্রেডিট কার্ডটি পাওয়া গিয়েছিল সেটি ছিল একটি সাপ্লেমেন্টরি ক্রেডিট কার্ড যেটির মূল মালিক গিয়াস উদ্দিন আল মামুন।

গিয়াস উদ্দিন আল মামুন তারেকের শুধু বিজনেস পার্টনারই ছিলেন না তারেকের সব অপকর্মেরই সাক্ষী ছিলেন। সে বিএনপিকে একটি দুর্নীতির শীর্ষ রাজনৈতিক দল পরিণত করার ক্ষেত্রে গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের ভূমিকা ছিল সর্বাধিক। সেই মামুন এখনও বিএনপিতে গুরুত্বপূর্ণ কেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *