স্পেনকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স

অনলাইন ডেস্কঃ

দুই তারকা করিম বেনজামা এবং কাইলিয়ান এমবাপ্পের গোলের সাহায্যে ফ্রান্স ২-১ গোলে স্পেনকে পরাজিত করে ইউরো নেশন্স লিগ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ইটালির মিলানে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ফ্রান্স প্রথমে গোল খেয়েও দারুনভাবে ঘুরে দাড়িয়ে শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা জিতে নেয়। এমবাপ্পে খেলা শেষ হওয়ার দশ মিনিট বাকি থাকতে জয়সূচক গোলটি করেন।

এর আগে করিম বেনজামার গোলে সমতায় ফিরেছিল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ফ্রান্স এ নিয়ে পর পর দুই ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও অবিশ্বাস্য ভাবে ঘুরে দাড়িয়ে জয়ী হলো। সেমিফাইনালে তারা বেলজিয়ামের বিপক্ষে ০-২ গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত জিতেছিল ৩-২ গোলে।

শেষ দিকে বেশ কয়েকটি সুযোগ সৃষ্টি করেছিল উভয় দলই। কিন্তু ম্যাচে প্রথমার্ধ ছিল বলতে গেলে নিস্প্রাণ। মিকেল ওইয়ারজাবালের গোলে স্পেন এগিয়ে যাওয়া ঠিক আগেই ফ্রান্সের একটি প্রচেষ্টা প্রতিহত হয় পোস্টে লেগে। স্পেন এগিয়ে ছিল মাত্র দুই মিনিটের মতো। করিম বেনজামার দারুন ফিনিশিং ফ্রান্সকে সমতায় ফেরায়।

স্পেন সেমিফাইনালে ২-১ গোলে ইটালিকে পরাজিত করে ফাইনালে উঠেছিল। সে ম্যাচে দুটি গোলই করেছিলেন ফেরান টোরেস। ফাইনালে তার ফিটনেস নিয়ে সংশয় থাকলেও কোচ তাকেই একাদশে রাখেন। করোনা টেস্টে পজেটিভ হওয়ায় ফ্রান্সের মিডফিল্ডার আড্রিয়েন রাবিয়ট ছিলেন না এ ম্যাচে খেলোয়াড় তালিকায়।

ম্যাচের প্রথম সুযোগটি পেয়েছিল ফ্রান্সই। বেনজামা স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমনকে কাটিয়ে বল দিয়েছিলেন এমবাপ্পের দিকে। কিন্তু সেটি বাচিয়ে দেন সিজার অ্যাজপিলিকুয়েটা। পাবলো সারাবিয়ার কাছ থেকে বল পেয়ে গোলের সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন টোরেস। কিন্তু তার শট সরাসরি চলে যায় গোলরক্ষক হুগো লরিসের কাছে। প্রথমার্ধে স্পেন বল দখলের দিক থেকে এগিয়ে থাকলেও সুযোগ সৃষ্টির দিক থেকে পিছিয়ে ছিল। বেলজিয়ামের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করা থিও হার্নান্ডেজ এ ম্যাচেও চমৎকার একটি শট মেরেছিলেন ৬৩ মিনিটে।

কিন্তু সেটি প্রহিতহ হয় ক্রসবারে লেগে। এর পরের মিনিটেই এগিয়ে যায় স্পেন। সার্জিও বুসকুয়েটসের পাস থেকে বল পেয়ে গোল করেনে ওইয়ারজাবাল। সমতায় ফিরতে খুব বেশি সময় নেয়নি ফ্রান্স। বেনজামা দারুন গোল করে স্কোর করেন ১-১। ৮০ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন এমবাপ্পে।

স্পেন অবশ্য অফসাইড দাবি করেছিল। কিন্তু ভিএআর দেখে রেফারি নিশ্চিত হন যে গোলটি বৈধ। শেষ দিকে স্পেন মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালায়। তারা সুযোগও সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু গোলরক্ষক হুগো লরিসকে পরাস্ত করা সম্ভব হয়নি। ওইয়ারজাবাল এবং ইরেমি পিনোর দুটি প্রচেষ্টা অবিশ্বাস্য দৃঢ়তায় রুখে দেন লরিস এবং ফ্রান্সকে এনে দেন শিরোপা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *